স্মার্টফোন কিভাবে আপনার আঙুলের স্পর্শ বোঝে?

আপডেট:

শেয়ার করুন:

আঙুলের ছোঁয়ায় স্ক্রিন সাড়া দেয় কীভাবে? রেজিস্টিভ থেকে ক্যাপাসিটিভ, জেনে নিন টাচস্ক্রিনের রহস্য

আজকের দিনে স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ব্যাংকের এটিএম, টিকিট ভেন্ডিং মেশিন থেকে শুরু করে গাড়ির নেভিগেশন সিস্টেম – সবখানেই টাচস্ক্রিন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। একটা আঙুলের ছোঁয়ায় স্ক্রিনে দেখা যায় নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া। কখনো একটা অ্যাপ খুলে যায়, কখনো ছবি জুম হয়, কখনো স্ক্রল হতে থাকে পেজ। কিন্তু এই যাদুর মতো কাজটা ঘটে কীভাবে? টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি আসলে কী এবং এর পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক নীতি কাজ করছে?

এই লেখায় আমরা জানব টাচস্ক্রিনের বিভিন্ন ধরন, তাদের কার্যপ্রণালী, মাল্টি-টাচ ফিচার এবং কেন মাঝেমধ্যে স্ক্রিন আমাদের স্পর্শে সাড়া দেয় না। চলুন শুরু করা যাক।

টাচস্ক্রিন কী?

টাচস্ক্রিন বা টাচ পেনেল হলো এমন একটি ডিভাইস যা ব্যবহারকারীকে সরাসরি স্ক্রিনে স্পর্শ করে কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে। মনিটরে এমন সেন্সর যুক্ত করা হয় যা স্পর্শের অবস্থান শনাক্ত করতে পারে, হোক সেটা আঙুল বা স্টাইলাস। মূলত টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে এবং ইনপুট এই দুটি কাজকে একসঙ্গে একটি ডিভাইসে মিশিয়ে দেয়।

টাচস্ক্রিনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর স্বজ্ঞাত (intuitive) ব্যবহার। সরাসরি আইকন বা বাটনে স্পর্শ করে কাজ করা যায় বলে কম্পিউটার ব্যবহারে অভ্যস্ত নন এমন মানুষও সহজেই এটি চালাতে পারেন। এছাড়া ডিভাইসকে ছোট ও সরল করতেও টাচস্ক্রিন সাহায্য করে। যেহেতু বাটনগুলো সফটওয়্যার-নির্ভর, তাই ইন্টারফেস সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব।

টাচস্ক্রিনের প্রধান ধরন

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তিতে মূলত কয়েকটি ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি পদ্ধতির নিজস্ব সুবিধা এবং সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চলুন প্রধান ধরনগুলো জেনে নিই।

১. রেজিস্টিভ ফিল্ম টাচস্ক্রিন (Resistive Film Touch Panel)

২০১০ সাল পর্যন্ত রেজিস্টিভ ফিল্ম ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি। এটিকে প্রেশার-সেনসিটিভ বা অ্যানালগ-রেজিস্টিভ টাচ পেনেলও বলা হয়। স্মার্টফোন, পিডিএ (PDA), গাড়ির নেভিগেশন সিস্টেম এবং নিন্টেন্ডো ডিএস-এ এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হতো।

কার্যপ্রণালী:

রেজিস্টিভ এবং ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের কার্যপ্রণালীর তুলনামূলক চিত্র।
রেজিস্টিভ স্ক্রিন চাপে কাজ করে, আর ক্যাপাসিটিভ স্ক্রিন আঙুলের পরিবাহীতায় সাড়া দেয়।

এই পদ্ধতিতে একটি কাচের স্ক্রিন এবং একটি নমনীয় ফিল্ম স্ক্রিন একটি সরু ফাঁক দিয়ে আলাদা থাকে। উভয় স্তরে স্বচ্ছ ইলেকট্রোড লেয়ার লাগানো থাকে। যখন আঙুল বা স্টাইলাস দিয়ে স্ক্রিনে চাপ দেওয়া হয়, ফিল্ম এবং কাচের ইলেকট্রোড স্পর্শ করে এবং বৈদ্যুতিক প্রবাহ সৃষ্টি হয়। ভোল্টেজের পরিবর্তন শনাক্ত করে স্পর্শের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়।

সুবিধা:
– সাধারণ গঠনের কারণে কম দামে তৈরি করা যায়
– কম বিদ্যুৎ খরচ হয়
– ফিল্মে ঢাকা থাকায় ধুলো ও পানি প্রতিরোধী
– খালি আঙুল, গ্লাভস পরা হাত বা স্টাইলাস সবকিছু দিয়েই ব্যবহার করা যায়
– হাতের লেখা ইনপুট দেওয়া সম্ভব

অসুবিধা:
– ফিল্ম এবং দুটি ইলেকট্রোড লেয়ারের কারণে আলো কম পাস করে, ফলে ডিসপ্লে কোয়ালিটি কমে
– তুলনামূলকভাবে কম টেকসই এবং শক প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল
– বড় স্ক্রিনে নির্ভুলতা কমে যায়

২. ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন (Capacitive Touch Panel)

রেজিস্টিভ টাচস্ক্রিনের পরে দ্বিতীয় সর্বাধিক ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন। আধুনিক স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

কার্যপ্রণালী:

ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন কাজ করে ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ক্যাপাসিট্যান্স (electrostatic capacitance) নীতির ওপর ভিত্তি করে। মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই বৈদ্যুতিক চার্জ থাকে। যখন একটি আঙুল স্ক্রিনের কাছে আসে, তখন স্ক্রিনের ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ফিল্ডে পরিবর্তন ঘটে। সেন্সরগুলো এই পরিবর্তন শনাক্ত করে স্পর্শের অবস্থান নির্ণয় করে।

ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের দুটি উপ-ধরন আছে:

ক. সারফেস ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন (Surface Capacitive):

এতে একটি কাচের সাবস্ট্রেটের ওপর স্বচ্ছ ইলেকট্রোড ফিল্ম বসানো হয় এবং চারটি কোণায় ইলেকট্রোড রাখা হয়। পুরো প্যানেল জুড়ে একটি সুষম বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র তৈরি হয়। আঙুল স্পর্শ করলে চার কোণার ক্যাপাসিট্যান্সের পরিবর্তন মেপে অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। তবে এই পদ্ধতিতে একই সময়ে দুই বা ততোধিক স্পর্শ শনাক্ত করা কঠিন।

খ. প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন (Projected Capacitive):

আইফোন, আইপ্যাড এবং বেশিরভাগ আধুনিক স্মার্টফোন এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এখানে একটি সাবস্ট্রেটে আইসি চিপসহ অসংখ্য স্বচ্ছ ইলেকট্রোড নির্দিষ্ট প্যাটার্নে সাজানো থাকে। আঙুল কাছে এলে একাধিক ইলেকট্রোডের ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তিত হয় এবং সেই অনুপাত মেপে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে স্পর্শের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।

প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের স্তর এবং আঙুলের স্পর্শে ক্যাপাসিট্যান্স পরিবর্তনের চিত্র।
আধুনিক স্মার্টফোনে ব্যবহৃত প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটিভ প্রযুক্তি একাধিক স্পর্শ নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে।

প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিনের বিশেষত্ব হলো এটি মাল্টি-টাচ সাপোর্ট করে – অর্থাৎ একসঙ্গে একাধিক আঙুলের স্পর্শ শনাক্ত করতে পারে। তবে স্ক্রিনের আকার বড় হলে রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যায় এবং ত্রুটি বাড়তে পারে। বড় স্ক্রিনের জন্য সেন্টার-ওয়্যার প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন ব্যবহার করা হয় যেখানে খুব সূক্ষ্ম তার গ্রিড আকারে বসানো থাকে।

সুবিধা:
– উচ্চ সংবেদনশীলতা
– মাল্টি-টাচ ফিচার
– আলো বেশি পাস করে, ফলে উজ্জ্বল ডিসপ্লে
– টেকসই এবং স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী
– ধুলো এবং পানির ফোঁটা প্রতিরোধী

অসুবিধা:
– গ্লাভস পরা হাতে বা সাধারণ স্টাইলাসে কাজ করে না
– বিশেষ স্টাইলাস প্রয়োজন
– আশেপাশের ধাতব কাঠামো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে
– দাম তুলনামূলকভাবে বেশি

৩. সারফেস অ্যাকোস্টিক ওয়েভ (SAW) টাচস্ক্রিন

রেজিস্টিভ টাচস্ক্রিনের কম আলো পাস করার সমস্যা সমাধানের জন্য SAW টাচস্ক্রিন তৈরি হয়েছিল। এটিকে সারফেস ওয়েভ বা অ্যাকোস্টিক ওয়েভ টাচ পেনেলও বলা হয়। পয়েন্ট-অব-সেল টার্মিনাল, এটিএম এবং ইলেকট্রনিক কিয়স্কে এটি ব্যবহৃত হয়।

কার্যপ্রণালী:

এই পদ্ধতিতে কাচের সাবস্ট্রেটের কোণায় পাইজোইলেক্ট্রিক ট্রান্সডিউসার বসানো থাকে যা আল্ট্রাসাউন্ড সারফেস ইলাস্টিক ওয়েভ সৃষ্টি করে। যখন আঙুল বা অন্য কোনো বস্তু স্ক্রিনে স্পর্শ করে, তখন এই আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গ শোষিত হয় এবং দুর্বল হয়ে যায়। এই পরিবর্তন শনাক্ত করে স্পর্শের অবস্থান নির্ণয় করা হয়। ব্যবহারকারী স্পর্শ করার সময় এই কম্পন অনুভব করেন না।

সুবিধা:
– উচ্চ আলো ট্রান্সমিট্যান্স এবং চমৎকার দৃশ্যমানতা
– কাচের সারফেস থাকায় টেকসই এবং স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী
– স্ক্র্যাচ হলেও স্পর্শ শনাক্ত করতে পারে
– দীর্ঘ সেবাকাল এবং স্থিতিশীলতা

অসুবিধা:
– শুধুমাত্র আঙুল এবং নরম বস্তু (যেমন গ্লাভস) ব্যবহার করা যায় যা আল্ট্রাসাউন্ড শোষণ করতে পারে
– পানির ফোঁটা বা ছোট পোকামাকড়ের উপস্থিতিতে ভুল প্রতিক্রিয়া দিতে পারে
– বিশেষ স্টাইলাস প্রয়োজন

৪. অপটিক্যাল টাচস্ক্রিন (Infrared Optical Imaging)

বড় আকারের টাচস্ক্রিনে ইনফ্রারেড অপটিক্যাল ইমেজিং প্রযুক্তি জনপ্রিয় হচ্ছে।

কার্যপ্রণালী:

এই পদ্ধতিতে প্যানেলের ওপরের বাম এবং ডান প্রান্তে একটি করে ইনফ্রারেড LED এবং একটি ইমেজ সেন্সর (ক্যামেরা) থাকে। বাকি তিন দিকে রেট্রোরিফ্লেক্টিভ টেপ লাগানো থাকে যা আলো প্রতিফলিত করে। যখন আঙুল স্ক্রিনে স্পর্শ করে, ইনফ্রারেড আলো বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং ছায়া তৈরি হয়। ইমেজ সেন্সর এই ছায়া ক্যাপচার করে এবং ট্রাইঅ্যাঙ্গুলেশন পদ্ধতিতে স্পর্শের স্থানাঙ্ক নির্ণয় করা হয়।

সুবিধা:
– অত্যন্ত উচ্চ আলো ট্রান্সমিট্যান্স
– বড় স্ক্রিনে উপযুক্ত
– টেকসই

৫. ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন টাচস্ক্রিন

এই পদ্ধতি মূলত গ্রাফিক্স ট্যাবলেট, ট্যাবলেট পিসি এবং কিছু বিশেষায়িত ডিভাইসে ব্যবহৃত হয়।

কার্যপ্রণালী:

এখানে একটি বিশেষ স্টাইলাস ব্যবহার করতে হয় যা চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করে। প্যানেলের সেন্সরগুলো এই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তি গ্রহণ করে এবং কলমের অবস্থান শনাক্ত করে।

সুবিধা:
– অত্যন্ত নিখুঁত সেন্সর প্রিসিশন
– চাপের মাত্রা সূক্ষ্মভাবে শনাক্ত করতে পারে (যেমন লাইনের পুরুত্ব পরিবর্তন)
– উচ্চ আলো ট্রান্সমিট্যান্স এবং টেকসই
– পরিবেশগত হস্তক্ষেপ এড়ানো যায়

অসুবিধা:
– শুধুমাত্র বিশেষ স্টাইলাস দিয়ে ব্যবহার করা যায়
– আঙুল বা সাধারণ স্টাইলাসে কাজ করে না
– সীমিত প্রয়োগক্ষেত্র

মাল্টি-টাচ ফাংশনালিটি এবং জেসচার সংকেত

আধুনিক টাচস্ক্রিনের একটি অসাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো মাল্টি-টাচ ফাংশনালিটি। এর মানে হলো একই সময়ে একাধিক আঙুলের স্পর্শ শনাক্ত করার ক্ষমতা। এই প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

প্রধান জেসচারসমূহ:

১. ট্যাপ এবং ডাবল-ট্যাপ: একটি আঙুল দিয়ে স্পর্শ করলে অ্যাপ খোলা বা আইটেম নির্বাচন হয়। দুইবার দ্রুত ট্যাপ করলে জুম ইন বা অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হয়।

২. স্ক্রলিং: একটি আঙুল দিয়ে সোয়াইপ করলে পেজ, ডকুমেন্ট বা ফিড স্ক্রল হয়।

৩. পিঞ্চ-টু-জুম: দুটি আঙুল একসাথে বা আলাদা করলে ছবি বা ম্যাপ জুম ইন বা আউট হয়।

৪. সোয়াইপ: স্ক্রিনের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে আঙুল টেনে নিয়ে গেলে স্ক্রিন বদল, ট্যাব পরিবর্তন বা নোটিফিকেশন বাতিল করা যায়।

৫. রোটেট: দুটি আঙুল দিয়ে ঘুরিয়ে ছবি বা ম্যাপের ওরিয়েন্টেশন পরিবর্তন করা যায়।

৬. থ্রি-ফিঙ্গার সোয়াইপ: তিনটি আঙুল দিয়ে সোয়াইপ করলে সম্প্রতি ব্যবহৃত অ্যাপগুলোর মধ্যে স্যুইচ করা যায়।

৭. ফোর-ফিঙ্গার সোয়াইপ: চারটি আঙুল দিয়ে সোয়াইপ করলে হোম স্ক্রিনের মধ্যে নেভিগেশন বা কাস্টম ফাংশন চালু করা যায়।

এই জেসচারগুলো টাচস্ক্রিন ডিভাইসকে আরো স্বজ্ঞাত এবং ব্যবহারবান্ধব করে তুলেছে।

কেন মাঝেমধ্যে টাচস্ক্রিন সাড়া দেয় না?

অনেক সময় আমরা লক্ষ করি যে স্মার্টফোনের টাচস্ক্রিন আমাদের স্পর্শে সাড়া দিচ্ছে না। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে:

১. শারীরিক ক্ষতি: স্ক্রিনে ফাটল, আঁচড় বা অন্য কোনো ক্ষতি হলে টাচ সেন্সর ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে।

২. সফটওয়্যার সমস্যা: অপারেটিং সিস্টেমে বাগ বা গ্লিচ থাকলে সাময়িক সমস্যা হতে পারে।

৩. অ্যাপ ক্র্যাশ: নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ ফ্রিজ বা ক্র্যাশ হলে টাচস্ক্রিনের প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।

৪. ক্যালিব্রেশন সমস্যা: ভুল ক্যালিব্রেশন সেটিংসের কারণে নির্দিষ্ট অংশে টাচ কাজ নাও করতে পারে।

৫. হার্ডওয়্যার ত্রুটি: টাচ সেন্সর বা কন্ট্রোলারে সমস্যা থাকলে স্ক্রিন রেসপন্স করবে না।

৬. মেমোরি অপর্যাপ্ত: ফোনের মেমোরি ভরে গেলে ল্যাগ এবং আনরেসপন্সিভনেস দেখা দিতে পারে।

৭. পানি বা আর্দ্রতা: স্ক্রিনে পানি বা আর্দ্রতা থাকলে ইলেক্ট্রিক্যাল কারেন্টে বাধা সৃষ্টি হয় এবং সাময়িকভাবে টাচ কাজ বন্ধ হতে পারে।

৮. ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্টারফিয়ারেন্স: আশেপাশের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অন্যান্য হস্তক্ষেপ টাচস্ক্রিনকে প্রভাবিত করতে পারে।

৯. টাচস্ক্রিন সেটিংস: ব্যবহারকারীর পরিবর্তিত সেটিংস, যেমন টাচ সেন্সিটিভিটি অ্যাডজাস্টমেন্ট, রেসপন্সিভনেসকে প্রভাবিত করতে পারে।

সমাধান:
– ডিভাইস রিস্টার্ট করুন
– সফটওয়্যার আপডেট করুন
– স্ক্রিন পরিষ্কার রাখুন
– শারীরিক ক্ষতি পরীক্ষা করুন
– প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্য নিন

টাচস্ক্রিন শুধু আঙুলে কাজ করে কেন?

ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন মানুষের শরীরের পরিবাহী বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে। প্লাস্টিক, কাগজ বা অন্যান্য অপরিবাহী বস্তুতে প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোস্ট্যাটিক ফিল্ড পরিবর্তন ঘটে না, তাই স্ক্রিন সাড়া দেয় না। এজন্য বিশেষ কন্ডাক্টিভ স্টাইলাস ব্যবহার করতে হয়।

অন্যদিকে, রেজিস্টিভ টাচস্ক্রিন চাপ শনাক্ত করে, তাই যেকোনো বস্তু দিয়েই এটি ব্যবহার করা যায়।

কি শিখলাম?

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এতটাই মিশে গেছে যে আমরা প্রায়ই এর পেছনের বিজ্ঞান নিয়ে ভাবি না। কিন্তু রেজিস্টিভ, ক্যাপাসিটিভ, SAW, অপটিক্যাল এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ইন্ডাকশন প্রতিটি পদ্ধতিরই নিজস্ব সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বর্তমানে কোনো একটি পদ্ধতি সব দিক থেকে শ্রেষ্ঠ নয়। ব্যবহারের উদ্দেশ্য, পরিবেশ এবং বাজেট বিবেচনা করেই নির্দিষ্ট প্রযুক্তি বেছে নেওয়া হয়। আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে প্রজেক্টেড ক্যাপাসিটিভ টাচস্ক্রিন জনপ্রিয় হওয়ার কারণ এর উচ্চ সংবেদনশীলতা, মাল্টি-টাচ সাপোর্ট এবং চমৎকার ইউজার এক্সপেরিয়েন্স। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তিও ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে। আরো দ্রুত, আরো নিখুঁত এবং আরো সাশ্রয়ী হয়ে উঠছে। আগামী দিনে আমরা হয়তো আরো অত্যাধুনিক টাচ ইন্টারফেস দেখব যা আমাদের ডিজিটাল অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

সূত্র: ইজো, অনার

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

Subscribe

Advertisement

Popular

More like this
Related

সূর্য থেকে বিদ্যুৎ: সোলার প্যানেল যেভাবে কাজ করে

ফোটোভোল্টাইক প্রযুক্তির মাধ্যমে সূর্যালোক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্পূর্ণ বিজ্ঞান প্রতিদিন...

জিপিএস (GPS) কিভাবে আপনার সঠিক অবস্থান বলে দেয়?

জিপিএস প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার অবস্থান নির্ণয়ের বিস্ময়কর বিজ্ঞান নতুন কোনো...

জেট ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে? জানুন সহজ ব্যাখ্যায়

কীভাবে একটি বিশাল ধাতব যন্ত্র মাধ্যাকর্ষণকে জয় করে আকাশে...

থ্রিডি প্রিন্টিং কী, কীভাবে কাজ করে এবং এর উদাহরণ ও সম্পূর্ণ গাইড

কীভাবে স্তরে স্তরে উপাদান যোগ করে তৈরি হয় ত্রিমাত্রিক...