
জীবনের শেষ সপ্তাহগুলোতে, এক শোকগ্রস্ত পরিবারকে চিঠিতে আইনস্টাইন লিখেছিলেন, অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ শুধু “একটি জেদি, টিকে থাকা বিভ্রম”। দশকের পর দশক পেরিয়েও পদার্থবিদরা এখনো একমত হতে পারেননি, তিনি ঠিক বলেছিলেন কিনা।
সমস্যাটা শুরু হয় “এখন” শব্দটা দিয়েই। স্বাভাবিকভাবে মনে হতে পারে, মহাবিশ্বের সব জায়গায় একই মুহূর্তে একটাই “এখন” চলছে। আপেক্ষিকতার সূত্র অনুযায়ী, ব্যাপারটা তা নয়। দুজন পর্যবেক্ষক ভিন্ন গতিতে চলাফেরা করলে, দূরের দুটি ঘটনার মধ্যে কোনটা আগে ঘটেছে তা নিয়ে দুজনেই সঠিকভাবে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন। একজনের হিসাবে ঘটনা ক আগে, অন্যজনের হিসাবে ঘটনা খ আগে, অথচ কেউই ভুল করছেন না। সময়ের এমন কোনো একক, সর্বজনীন ক্রম নেই যা পুরো মহাবিশ্ব মেনে চলে।
এটা নিছক তাত্ত্বিক ধারণা নয়। ঘড়ি সত্যিই ভিন্ন হারে চলে, গতি আর অভিকর্ষের তারতম্যের ওপর নির্ভর করে। ১৯৭১ সালে পরমাণু ঘড়ি বিমানে করে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করিয়ে সরাসরি এটা পরিমাপ করা হয়েছিল, যা Hafele-Keating পরীক্ষা নামে পরিচিত। মাটিতে রাখা ঘড়ির তুলনায় উড়ন্ত ঘড়িগুলো ভিন্ন সময় দেখিয়েছিল, ঠিক আপেক্ষিকতার হিসাব অনুযায়ী। একই প্রভাব আজও প্রতিদিন নিশ্চিত হচ্ছে, GPS স্যাটেলাইটের ঘড়িগুলোর মাধ্যমে।
তাহলে প্রশ্ন দাঁড়ায়, সময় যদি সবার জন্য এক হারে না চলে, “এখন” বলে যদি সর্বজনীন কিছু না থাকে, তাহলে সময়ের “প্রবাহ” জিনিসটা আসলে কী? আইনস্টাইনের সমীকরণে অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ আলাদা কিছু নয়, সবকিছু একসাথে এক স্থির স্থান-কাল হিসেবে বিরাজ করে। অথচ প্রতিদিনের অভিজ্ঞতা বলে সময় বয়ে চলেছে, মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে। পদার্থবিজ্ঞানের সমীকরণ আর মানুষের অনুভূতির মধ্যেকার এই ফারাকটাই আজও মীমাংসা হয়নি, আর সেটাই আইনস্টাইনের সেই চিঠির প্রশ্নকে এখনো জীবন্ত রেখেছে।
সূত্র
- Fourmilab (John Walker). "The Relativity of Simultaneity." n.d.
- Taylor & Wheeler, Spacetime Physics. "4.9: Relativity of Simultaneity." n.d.
- Georgia State University (HyperPhysics). "Hafele-Keating Experiment." 1971 (event), n.d. (published).
- Scientific American. "How Time Flies: Ultraprecise Clock Rates Vary with Tiny Differences in Speed and Elevation." n.d.
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।