
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে একজন রোগী আসছেন, বুকে তীব্র ব্যথা আর শ্বাসকষ্ট নিয়ে। ECG আর রক্ত পরীক্ষায় সব লক্ষণ হার্ট অ্যাটাকের মতোই দেখাচ্ছে। কিন্তু কারণ খুঁজতে গিয়ে ডাক্তাররা দেখেন, ধমনীতে কোনো ব্লকেজ নেই। বদলে রোগীর সাম্প্রতিক জীবনে আছে এক গভীর শোক, হয়তো সঙ্গীর মৃত্যু।
এই অবস্থার নাম টাকোৎসুবো কার্ডিওমায়োপ্যাথি (Takotsubo Cardiomyopathy), সহজ ভাষায় যাকে বলা হয় ব্রোকেন হার্ট সিনড্রোম। নামটা এসেছে জাপানি এক মাছ ধরার ফাঁদ থেকে, যা দিয়ে অক্টোপাস ধরা হয়। কারণ প্রবল মানসিক চাপে থাকা হৃৎপিণ্ড সাময়িকভাবে ফুলে ঠিক সেই ফাঁদের মতো আকার নেয়।
কেন এমন হয়? গবেষকদের ধারণা, তীব্র মানসিক আঘাতের মুহূর্তে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের একটা ঢল নামে, যা হৃৎপেশিকে সাময়িকভাবে অভিভূত করে ফেলে। ফলে স্ক্যানে হার্ট অ্যাটাকের মতোই একটা ছবি ফুটে ওঠে, অথচ ধমনী থাকে পুরোপুরি সচল।
এই সংযোগ শুধু একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গবেষণায় বারবার দেখা গেছে, স্বামী বা স্ত্রীকে হারানোর পরের কয়েক মাসে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষকরা একে বলেন বিপত্নীক-প্রভাব (Widowhood Effect)। অর্থাৎ শোক শুধু মনের ওপর চাপ ফেলে না, শরীরের ওপরেও তার সরাসরি, পরিমাপযোগ্য প্রভাব পড়ে।
তাই "মন ভেঙে যাওয়া" নিছক একটা কথার কথা নয়। ডাক্তাররা একে এখন স্ক্যানে দেখতে পান, নির্দিষ্ট নাম দিয়ে শনাক্ত করেন। শোকের সময় শরীর সত্যিই ভেঙে পড়তে পারে, রূপকভাবে নয়, শারীরবৃত্তীয়ভাবে।
সূত্র
- Harvard Health Publishing. "Takotsubo cardiomyopathy (broken-heart syndrome)." n.d.
- ALiEM. "Takotsubo Cardiomyopathy: The Octopus Trap." n.d.
- NIH / PubMed Central. "Broken Heart Syndrome: Evolving Molecular Mechanisms and Principles of Management." n.d.
- Moon, Kondo, Glymour & Subramanian. "Widowhood and Mortality: A Meta-Analysis." 2011.
মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই — প্রথম মন্তব্যটি করুন।